![]()


আমি খুব কিছুদিন আগেই দ্বিতীয় জীবন ফিরে পেয়েছি। শ্রীমঙ্গলে গিয়েছিলাম ঘুরতে। ফিরে এসেই অজ্ঞাত কোন ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন হয়ে আমার ফুসফুস ভরে গলগল করে গলা দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলো। হসপিটালে নিয়ে যাবার পর ডাক্তার ক্লিনিক্যালি ডেড বলে লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেটর মেশিনে দিয়ে দ্যায়। এবং ঘোষনা করে দেয়া হয় ১০০% লাইফ সাপোর্টে থাকা মানুষের ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। ১৫ দিন কোমায় থেকে আর ১৮দিন লাইফ সাপোর্টে থেকে ফিরে আসলাম আবার। এক কথায় দ্বিতীয় জীবন। এখনোও পুরো সুস্থ্য হয়ে কাজে ফিরিনি।
অসুস্থ হবার ঠিক আগের মূহুর্তগুলো, মানে আমার আগের জীবনের শেষ মূহুর্তগুলো কি অদ্ভুত সুন্দর ছিলো, দেখবেন? খুব কম মানুষের জীবনের শেষ দিনগুলো এত চমৎকার হতে পারে। মূহুর্তগুলো ক্যামেরায় ধরা সম্ভব না, কিন্তু ছবি গুলো ধরেছি!
--------------------------------------------------------------------
বোকা পাখিঃ

এক দেশে ছিলো এক বোকা পাখি। পাখিটা আজীবনই জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরতো। কখনোও মানুষের শহরে ঢুকেনি সাহস করে। একদিন খুব ভোরে পাখিটার ঠোঁটে কেমন করে যেন একটা খড়কুটো লেগে গিয়েছিলো। উড়ে এসে হটাৎ মাটিতে নেমে ঠোঁটটা মাটিতে ঘষে সেই খড়কুটো তুলতে চেষ্টা করছিলো। ভুলেই গিয়েছিলো জঙ্গলের শেষপ্রান্তে যেখান থেকে মানুষদের থাকার জায়গা শুরু সেখানে চলে এসেছে। পিছন ফিরে আবিস্কার করলো এই ভোরেও এই জঙ্গলের পাশে বাঁধানো পুকুরের ঘাটে কে যেন বসে আছে আছে। পাখিটা অবাক দেখে মানুষটাকে। আর মানুষটা এতো কাছে থেকে পাখিটাকে পেয়ে ফটাফট ছবি তুলতে থাকলো।

মানুষটা ক্ষতি করছেনা দেখে পাখিটা সাহস পেয়ে কাছে এগিয়ে এলো। মানুষটার পায়ের স্যান্ডেল এ ঠোঁটে লেগে থাকা খড়কুটোটা ঘষতে লাগলো। হাত বাড়িয়ে ছোট্ট পাখিতার মুখ থেকে খড়কুটোটা ছাড়িয়ে দিতেই পাখিটা উড়ে আরেকটু দূরে এসে বসলো, ভাবলো - "উমমমম...এই মানুষ জাতিটা একদমই আজব কিসিম!"
-----------------------------------------------------------------------
কাঠবেড়ালী

দৌড়ে না ঠিক উড়েই কাঠবেড়ালীটা যাচ্ছিলো। এই গাছ থেকে সেই গাছ। এরা এমনিতেই মহাচঞ্চল, তার উপর কোনও একটা অজ্ঞাত কারনে এই কাঠবেড়ালীটা টার্বো মুডে এই ডাল সেই ডাল উড়ে উড়ে যাচ্ছিলো।

অনেকক্ষন তাকে পিছু ধাওয়া করে, জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে গিয়ে করে তাকে বাগে এনেীই একটা স্ন্যাপ!
----------------------------------------------------------------------
Wood Trunk Texture

Stack করে রাখা এতগুলো গাছের গুড়ি, তারওপর বৃষ্টিটাও চলছিলো গুড়িগুড়ি। অদ্ভুত একটা টেক্সচার পেলাম হটাৎ!
----------------------------------------------------------------------
ফরিং

মানুষ একটা ছবি তুলতে কত কষ্ট করে, আর আমি? বিশ্বাস করুন এই ছবিটা তুলতে আমার কোনও কষ্টই হয়নি। আমি দাড়িয়েছিলাম আমার কটেজের বারান্দায়, ভোরবেলাতে, ছবি তুলতে বের হবার আগে ক্যামেরা চেক করে নিচ্ছিলাম। ক্যামেরাটা চোখে লাগিয়ে ভিউফাইন্ডারের ভেতর রেডি হয়ে আছে এই ছবি, ফরিংটা মনে হয় বসেই ছিলো এতক্ষন দেখতে পাইনি! এপারচার ঠিক করে আমি খালি শাটার টিপলাম। ব্যাস!! কোন কষ্টই হলোনা!
----------------------------------------------------------------------
মিনিপ্রপাত


অনেক্ষন অনেক গবেষনা করলাম পিচ্ছিল ঝর্ণার স্রোতের উপর হাটু পানিতে দাঁড়িয়ে এই ছবিটা তুলে। চেয়েছিলাম এই ৪/৫ফুট আকারের জলপ্রপাতটাকে নায়াগ্রার লুক দিতে পারি নাকি, মানুষ যেন আকারটা না বোঝে। আমি বিফল হয়েছিলাম। 
-----------------------------------------------------------------------
ফিঙ্গে

এটা একটা ফিঙ্গে। উগ্র ন্যাচার লাভারদের মত আমি সব পাখির নাম না বলতে পারলেও এটার নাম আমি জানি।
-----------------------------------------------------------------------
A Softer Walk


শ্রীমঙ্গলের এই জায়গাটায় একটা ফাইভ স্টার হোটেল হচ্ছে যার কাজ শুরুর প্রাথমিক ভিউ'টাই এটা! আমাদের ঢুকতে দিলোনা 
----------------------------------------------------------------------
রঙ

সেদিনের আবহাওয়াটাই এমন ছিলো। ছবি তুলে সার্থক কিনা শিওর না হলেও সঠিক রংটা ক্যাপচার করতে পারায় আমি সার্থক!
----------------------------------------------------------------------
হাটাপথে

বিশ্বাস করুন! বিভুতিভূষনের "আরণ্যক" পরে আমি ঠিক এই জঙ্গলটাই দেখতে পেতাম।