![]()


ফটোব্লগঃ পালপাড়াঘাট
সিরিয়াসলি ছবি তুলতে শুরু করার পর থেকে পর পর দুই কোরবানীর ঈদ ফারসিমদের বাসার পেছনে নদীতে উদ্দেশ্যহীন নৌকায় ঘোরাঘুরি করেছি। আমরা যারা শহরে বড় হয়েছি আর শহরেই থাকি, তাদের কাছে নৌকায় চড়া ব্যাপারটা বেশ বিনোদনমূলক। আমরা অনেক আনন্দ নিয়ে নৌকায় চড়ি, আর এমন একটা ভাব করি যেন ফ্যান্টাসি কিংডম এ আছি। আর আশেপাশের নৌকায় যারা প্রতিনিয়ত নৌকায় এপারওপার করছে তারা বিরক্ত হয়। হবেই তো, আমরা আমাদের শহরে যদি দেখি কেউ রিক্সায় চরে আহলাদ করছে, কিংবা সিএনজি চড়ে এদিকওদিক যাওয়াটাই বিনোদন, আমরা অনেক বাজে মন্তব্য করি। তাই কিছুটা হিনমন্যতা নিয়ে ক্যামেরা গলায় নৌকায় চড়তে হয়। কিন্তু ছবি তোলা তবুও থামবেনা, থামবেনা নৌকায় চরে ওদের চোখে ছ্যাবলামী করা!
সবগুলো ছবিতে একটা নস্টালজিক ফ্লেভার আনতে চেয়েছি, প্রধানত ছবি তোলার সময়। বেশিরভাগ ছবিতেই পোস্ট প্রোডাকশনে তেমন কিছুই করা হয়নি রিসাইজ আর ওয়াটারমার্ক করা ছাড়া। জানিনা সফল হলাম কিনা।
সেদিন বিকেলটা যেমন ছিলোঃ
------------------------------------------------------------------------

এই ঘাটের নাম "পালপাড়া ঘাট"। এটার ওই পাড়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডিশের লাইনওয়ালা ডিজিটাল গ্রাম; আর এই পাড়ে শহরের শেষ প্রান্ত। ঘাটের একটু আগে ছোট্ট হোটেলে চা আর পুড়ি। এলাকার লোকাল পোলাপানের ভাষায় হরি ভাই এর এই পুড়ি দিনদিন ছোট হতে হতে নাই হয়ে যাচ্ছে। এলাকাই এই বিষয়ে গানও প্রচলিত আছে! (আমি আগামীতে হরি ভাই এর দোকানের উপর একটা ফটোব্লগ করব ইনশাল্লাহ)
----------------------------------------------------------------------

জনাবের নামটা জানিনা। তবে উনার মন মেজাজ ভালো ছিলোনা। একজনের মায়ের প্রতি চুরান্ত প্রেম ভালোবাসা অতঃপর শারিরীক সম্পর্ক স্থাপনার আকাঙ্খামুলক গালাগালি করছিলেন। ব্যাপারটা শ্রুতিমধুর ছিলোনা।

আর এই ভদ্রলোক গালাগালি শুনে বেশ মজা পাচ্ছিলেন।
-----------------------------------------------------------------------

নদীর পাড়ের ডানপিটেরা।
------------------------------------------------------------------------

তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
গুতা মারে আকাশে!
------------------------------------------------------------------------

লাল মিয়া সব খায়
পানি খেলে মরে যায়
(এই ধাঁধার উত্তর কে জানে?)
------------------------------------------------------------------------

আমি জানিনা এই বাড়িটায় যে থাকে, সে কতটুকু সুখী। তবে আমার মনে হয় বেশ সুখেই আছে তারা। বন্যা নাগাল পাবেনা, ঝড় ছুঁয়ে যাবেনা, ভোদাই মার্কা আধ-শহুরে নদীতে শালার ভাঙ্গনও ধরেনা! তবে তো বেশ সুখেই থাকা!
------------------------------------------------------------------------

নদী বা খালের পাড়ের প্রতিটি গ্রামে একটা পার্কিং জোন আছে। এই কারনে গ্রামগুলোতে ঝামেলা কম। আমাদের শহরের সবগুলো গাড়ি যদি শহরের বাইরে, অন্ততপক্ষে এলাকার বাইরে পার্ক করা হতো, কি মজা হতো!
-------------------------------------------------------------------------

এপার ওপার, আর অপার
--------------------------------------------------------------------------

হটাৎ একপাশে দেখি গ্রীক পৌরাণিক উপকথার দৃশ্য।
------------------------------------------------------------------------

ছবি তোলানো বিষয়টা কিন্তু অনেক মজার। তারচেয়েও মজা পায় ক্যামেরার পেছনের মানুষটা।
-----------------------------------------------------------------------

নাহ, এটা কোনও পার্টির মার্কা নয়, এত বাজে একটা বিষয় হতেই পারেনা!
------------------------------------------------------------------------

আমাদের বিদায় দিলো ওরা।