![]()


সত্যিকারের Wildlife Photography নয়, এই ব্লগের ছবিগুলো আক্ষরিক অর্থেই Attempt। কারন সুন্দরবন যাবার প্ল্যান আছে কিছুদিন পর। টুরিস্ট মার্কা বেক্কল ট্যুর না, রীতিমত এডভেঞ্চার করার প্ল্যান। সুন্দরবনের হাজারো প্রাণীকূলের ছবি তোলার আগে হাত ঝালিয়ে নেয়ার প্ল্যানে গিয়েছিলাম মিরপুর চিড়িয়াখানা। সেই ছোটবেলায় এসেছিলাম। তখন বিনোদন বলতে চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন আর শিশুপার্ক। হটাৎ করে যেদিন দেখলাম বড় হয়ে গেছি, সেদিনই মনে পড়লো এত কাছের মজার জায়গা চিড়িয়াখানা, দেখিনা ক্যামেরা নিয়ে ঢুকে, আমি কি সুন্দরবনের গহীনে ঢুকে পাকনামি করতে সক্ষম হয়েছি কিনা।
এখানে সবগুলো ছবি মিরপুর চিড়িয়াখানার ভেতরে তোলা। ভাগ্যক্রমে সেদিন হাল্কা বৃষ্টি হয়েছিলো। সবকিছু ছিলো সবুজ, আর এরকম আবহাওয়ার কারণেই দুর্লভ ময়ুরের নাচ দেখেছি, যেটা আগে জীবনেও সামনাসামনি দেখিনি।
-------------------------------------------------------------------------------

চিড়িয়াখানায় ঢুকতেই প্রথমেই বাদরের খাঁচা। জানিনা একারনেই কিনা ছোটবেলায় চিড়িয়াখানায় ঢুকতেই মজাটা জমে যেত! এটা একদমই ছোট একটা বানরের বাচ্চা, যে এখন বান্দরামি স্কুলের কেজিতে পড়ছে।
-----------------------------------------------------------------------------

কুমিড় হা করে রোদ পোহায় কেন? প্রানীবিশারদ্গন কেউ কি জানেন?
-----------------------------------------------------------------------------

এই ছবিটা তুলেই আমি হা করে বসেছিলাম। কারন আমার ক্যামেরার এলসিডি তে আমি আমার কুচক্রি দুই নেত্রিকে দেখতে পাচ্ছিলাম। বলুনতো কে কোনটা?
-----------------------------------------------------------------------------

আমাদের অহংকার, রয়েল বেঙ্গল টাইগার। আমি জানিনা কেন জানি বিদেশি চ্যানেলে যখন বলে ইন্ডিয়ান রয়েল বেঙ্গল টাইগার আমার মেজাজটা খারাপ হয়ে যায়। ইচ্ছা করে সুন্দরবনে গিয়ে সবগুলো রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে বেঁধে রাখি "যাবিনা শালার ইন্ডিয়া তে!!"

কিন্তু যখনই এই ভয়ংকর খুনী, পৃথিবীর অন্যতম হিংস্র প্রাণীটার চোখের দিকে তাকাই, কলজে ঠান্ডা হয়ে যায় প্রবল ব্যাক্তিত্বময় চলাফেরা দেখলে। এত বড় দেহ অথচ ভুতের মত নিঃশব্দ।

এমনকি এরা সাঁতারেও ভয়াবহ পটু!
-----------------------------------------------------------------------------

এই জনাব গুঁইসাপকে কিন্তু কোনও খাঁচায় দেখিনি। চিড়িয়াখানার পাশে প্রচুর ঝোপঝাড়, সেখান থেকে উঁকি দিয়েছিলেন।
-----------------------------------------------------------------------------

এরা উল্লুক। বান্দরের সাবক্যাটাগরি। এদের নাম করে আমরা মানুষরা একে অপরকে গালি দেই। কিন্তু দেখুন, এদের মধ্য কোনও বর্ণবাদ নেই। কালোর দুঃখে সাদাটা সান্তনা দ্যায় "পাশের খাঁচার হনুমান তোকে মানুষ বলে গালি দিয়েছে বলে এভাবে কাঁদবি?"
-----------------------------------------------------------------------------

উটপাখী। দেখতে বেকুব মনে হলেও এই শালা বহুত বদ। উটপাখীর লাথি খেয়ে মরা মানুষের সংখ্যা অন্য যে কোনও লাত্থানো প্রাণীর Kill Point এর চেয়ে বেশি।
-----------------------------------------------------------------------------

আগেই বলেছি অদ্ভুত সবুজ ছিলো সব, বৃষ্টির পরপরই। ময়ুরের খাঁচায় গিয়ে ক্যামেরা তাক করতেই দেখি জনাব নাচা শুরু করলেন! আর চোখেও অদ্ভুত ভরতনাট্যমের মুদ্রা।

ময়ুর পেখম মেলে কখন, জানেন? সঙ্গিনীকে মুগ্ধ করতে। মানুষ বাদে পৃথিবীর আর সব প্রানীদের পুংলিঙ্গ সুন্দর হয়, আর ময়ুরটা যেন একটু বেশিই!


আর যখন পাখাটা মেলেই ফেলে, তখনি ঘটে যায় ম্যাজিক!

সাদা ময়ুর দুস্প্রাপ্য, দেখতেও ভিন্ন রকমের সৌন্দর্য্য।
-----------------------------------------------------------------------------

J তে Jebra, জেব্রার কি সাদার উপর কালো ডোরা, নাকি কালোর ওপরে সাদা ডোরা, এই বিষয়ে একটা নেভার এন্ডিং তর্ক আছে। ঠিক চায়ের দোকানের আওয়ামিলীগ-বিএনপি ঝগড়া!